ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে থাকতাম। বাবর রোডের পাশেই হুমায়ুন রোডে জেনেভা ক্যাম্পটি অবস্থিত। তাই আমি এই ক্যাম্পের আর্থ-সামাজিক অবস্থা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের উপর আমি আমার অনার্সের গবেষণাপত্রটিও করেছিলাম। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি এই ই-বুকটি লিখেছি।
বাংলাদেশের ১২টি জেলায় প্রায় ৪ লাখ বিহারি জনগোষ্ঠী ১১৬টি বিহারি ক্যাম্পে বসবাস করে। ২০১৩ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসরত বিহারি জনগোষ্ঠীর মানবিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয় নিয়ে আমি এই ই-বুকটি লিখেছিলাম। ইউএনডিপি (১৯৯৪)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী,মানবিক নিরাপত্তার সাতটি সুনির্দিষ্ট দিক বা উপাদান রয়েছে—যেমন অর্থনৈতিক, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিবেশগত, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা। বাংলাদেশের বিহারি জনগোষ্ঠী উল্লিখিত এই সাতটি নিরাপত্তা থেকেই বঞ্চিত।
তবে এর বিপরীতে, জেনেভা ক্যাম্পের একটি কার্যালয় পরিদর্শনের সময় আমি সেখানকার একটি কমিটির সভাপতি ও তাঁর ছেলেদের একটি ছবি দেখেছিলাম। কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছিলেন যে, সভাপতির ছেলেরা একটি বহুজাতিক কোম্পানি 'ইউনিলিভার'-এ কর্মরত আছেন; তাঁরা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যথাযথ শিক্ষা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
২০০৮ সালের পর থেকে বিহারি জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে নাগরিকত্ব ও জমির মালিকানার অধিকার লাভ করছে। ফলে তারা মূলধারার বাংলাদেশিদের সাথে মিশে যাচ্ছে এবং অনেকেই এখন ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করছে। তবে জেনেভা ক্যাম্পের অধিকাংশ বাসিন্দার জীবনযাত্রার মান এখনও ভালো নয়।